Wednesday, June 28, 2023

উপমহাদেশের চলচ্চিত্র জগতে ক্ষণজন্মা তারেক মাসুদ কেন অনন্য? মো. রিদওয়ান আল হাসান


ফরিদপুরের ভাঙায় ১৯৫৬ সালে জন্ম নেয়া তারেক মাসুদ মাদরাসায় পড়ুয়া অন্যান্য দশজন শিক্ষার্থীর মতোই ছোটবেলায় 'সিনেমা' সম্পর্কে তেমন একটা জানতেন না। শৈশব-কৈশোরে সিনেমা দেখাও হয় নি তাঁর। আশ্চর্য হওয়ার মতো ব্যাপার হলেও সত্যি যে এই মানুষটিই একসময় হয়ে ওঠেন আমাদের চলচ্চিত্র জগতের একজন প্রতিশ্রুতিশীল নির্মাতা, চিন্তাশীলতার জাগরণকারী একজন গুণী চিত্রনাট্যকার,চলচ্চিত্র পরিচালক এবং প্রযোজক। বাংলা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং বিশ্বের দরবারে চিন্তাঋদ্ধ বাংলা চলচ্চিত্রের সুখ্যাতি ছড়িয়ে দেয়া কিংবদন্তি সত্যজিৎ রায়ের অনবদ্য 'পথের পাঁচালি' সিনেমাটিই ছিল তারেক মাসুদের দেখা প্রথম কোনো সিনেমা। 


রুচিশীলতা,সূক্ষ্ম জীবনবোধের সাথে সমসাময়িক সমাজের নিগূঢ় বাস্তবতা,সমস্যার প্রেক্ষাপট এবং উত্তরণের উপায় সম্পর্কে ধারণা দেয়া তারেক মাসুদের নির্মাণগুলো আমাদের চিন্তা করতে শেখায়,ভাবতে শেখায়, ইতিহাস- সমাজ-রাজনীতি সম্পর্কে করে তোলে সচেতন। ঢাকার লালবাগের একটি মাদ্রাসা থেকে 'মাওলানা' পাস করা এই সৃষ্টিশীল মানুষটির মাদ্রাসা শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে। পরবর্তীসময়ে তিনি আবার কলেজে ভর্তি হয়ে এইচএসসি সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে স্নাতক করার সুযোগ পান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে তিনি ফিল্ম এপ্রিসিয়েশনের উপর কোর্স করেন বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ থেকে। ধর্ম, দর্শন, আধুনিক বিজ্ঞান, শিল্পকলা, সাহিত্য, লোকসংস্কৃতি, স্থাপত্য, সমাজ ও রাজনীতিসহ জ্ঞানের নানান শাখায় তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। চলচ্চিত্র জগতে গুরু হিসেবে পাওয়া আলমগীর কবিরের এই শিষ্য ব্যক্তিজীবনে আহমদ ছফা দ্বারাও হয়েছিলেন বেশ প্রভাবিত। চলচ্চিত্র জগতের তানভীর মোকাম্মেল, মোরশেদুল ইসলামকে যেমনি পেয়েছিলেন সঙ্গী হিসেবে তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধু হিসেবে পেয়েছিলেন ড. সলিমুল্লাহ খানের মতো দর্শন, সাহিত্যানুরাগী একজন গুণীকে। তিনি একবার তাঁর ইচ্ছের কথা এভাবে বলেছিলেন, 'চলচ্চিত্রকার না হলে লেখক হওয়ার চেষ্টা করতাম। '


নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই তারেক মাসুদ প্রামাণ্যচিত্র,স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজে জড়িত ছিলেন। প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জীবনের উপর নির্মিত সমালোচকদের দৃষ্টি কাড়া 'আদম সুরত' তাঁর মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম প্রামাণ্যচিত্র । তাঁর 'মুক্তির গান' আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি ঐতিহাসিক দলিল স্বরূপ। তারেক মাসুদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'মাটির ময়না' প্রথম কোনো বাংলাদেশি বাংলা চলচ্চিত্র হিসেবে অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল। নিজের মাদ্রাসা জীবনের অভিজ্ঞতাকে তিনি গভীর মমত্ববোধ, জীবনবোধ, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং আমাদের সমাজ বাস্তবতার নিরিখে এত দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছেন যে দেশ এবং দেশের বাইরের দর্শক,চলচ্চিত্র সমালোচকেরা মুগ্ধ না হয়ে পারেন নি। তাঁর আরেকটি চলচ্চিত্র 'রানওয়ে' বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ এবং ধর্মীয় অন্ধত্ব বিরোধী একটি রাজনৈতিক এবং সামাজিক চলচ্চিত্র যা আমাদের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করে,সমস্যার গভীরে নিয়ে যায় এবং উত্তরণের পথ বাতলে দেয়৷ কোনো ধর্ম, গোষ্ঠীকে দায়ী না করে গভীর নীরিক্ষাধর্মী দৃষ্টিভঙ্গি এবং দরদের সাথে কীভাবে প্রকৃত চিত্রটিকেই তুলে ধরা যায় সে ব্যাপারে তিনি তাঁর অনন্য মুন্সিয়ানা দেখিয়েছিলেন। 


তারেক মাসুদ যে শুধু সিনেমার নক্ষত্র আলোক বাংলাদেশের মধ্যেই আবদ্ধ রেখেছিলেন তা নয়,তিনি সেই জ্যোতি ছড়িয়ে সমগ্র উপমহাদেশে এমনকি বিশ্বের সচেতন দর্শক,সমালোচকদের দৃষ্টিও আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। কান থেকে শুরু করে অস্কার সবখানেই তিনি হয়েছেন আলোচিত। জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তব্যকে এত সরলভাবে নিখুঁত ভঙিমায় চলচ্চিত্ররূপে নান্দনিকতার মিশেলে মানুষের সামনে তুলে ধরে তিনি তাঁর মেধা ও মননের যে পরিচয় দিয়েছেন তা নিঃসন্দেহে অনন্য, অতুলনীয়। খুব অল্প সময়েই তিনি চলচ্চিত্রজগতের একজন প্রবাদ পুরুষে পরিণত হয়েছিলেন। 


কলাকৌশল, প্লট, চিত্রনাট্যসহ সার্বিক ব্যাপারেই তারেক মাসুদ সচেতনতার সাথে নিজের বক্তব্য তুলে ধরতে পেরেছিলেন যা তাঁকে একজন প্রতিশ্রুতিশীল নির্মাতার কাতারে নিয়ে গিয়েছিল। ধর্মের মতো স্পর্শকাতর ব্যাপারে নিজের সচেতন ও যত্নশীল বক্তব্য উপস্থাপন করে তিনি সুস্পষ্ট প্রতিভার যে স্বাক্ষর রেখেছেন তা আমার কাছে একরকম অবিশ্বাস্যই মনে হয়। এই জায়গাটিই তাঁর কৃতিত্বের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক। ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষা করে প্রচলিত ধর্মমতের নেতিবাচক দিকগুলোকে সমাজের প্রত্যক্ষ চিত্রকলায় তিনি নিজের ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছিলেন, যা তরুণ সমাজকে প্রশ্ন করতে শেখায়, ভাবতে শেখায় এবং দিকনির্দেশনা দিয়ে বুঝিয়েও দেয় সমস্যার সমাধান কী হতে পারে! দর্শকদের মননে আঘাত করে বুদ্ধিবৃত্তিকে মুক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করে তাঁর নির্মাণশৈলী৷ 


আমাদের দুর্ভাগ্য যে তারেক মাসুদের মৃত্যুও হয়েছিল তাঁর চলচিত্র গুরু,বাংলা চলচ্চিত্রের আরেক কাণ্ডারী আলমগীর কবিরের মতোই; অকালমৃত্যু। ফেরিঘাটের দুর্ঘটনায় আলমগীর কবিরের মৃত্যুর প্রায় দুই যুগ পর তাঁর শিষ্য উপমহাদেশের চলচ্চিত্রজগতের ত্রাণকর্তা মহাপুরুষ তারেক মাসুদ মাত্র ৫৪ বছর বয়সে মানিকগঞ্জে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। তাঁর সাথে থাকা সাংবাদিকতা,গণমাধ্যম এবং ফটোগ্রাফি জগতের আরেক নক্ষত্র মিশুক মুনীরও মৃত্যুকে করেন আলিঙ্গন৷ সেসময় তাঁরা 'কাগজের ফুল' চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের স্থান দেখতে যাচ্ছিলেন মাইক্রোবাসে করে। 


চলচ্চিত্রজগতের অনন্য কীর্তিমান এই গুণীজনকে আমরা হারিয়ে ফেললেও তাঁর নির্মাণগুলো আমাদের হাতে রয়েছে । রুচিহীন, হালকা, মানহীন চলচ্চিত্রের ভিড়ে, সামাজিক অবক্ষয়ের এই ক্রান্তিলগ্নে তারেক মাসুদ চর্চা আমাদের জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে। অবধারিত হয়ে দাঁড়িয়েছে 'সোনার বেড়ি', 'মুক্তির কথা', 'নারীর কথা', 'অন্তর্যাত্রা', 'নরসুন্দর'- এর মতো শক্তিশালী সামাজিক, ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র ধারণ করা,লালন করার ব্যপারটি।


লেখালেখি, সভা, সেমিনার, বক্তব্য, প্রদর্শনী, আলোচনার মাধ্যমে তারেক মাসুদ এবং তাঁর চলচ্চিত্রগুলো সম্পর্কে বর্তমান এবং নিকট ভবিষ্যতের শিক্ষার্থী,তরুণ সমাজ এবং দর্শকদের অবহিত না করে এই গুণীজনকে অবজ্ঞা আর অবহেলা করার ফল আমাদের জাতির জন্য হবে ভয়াবহ। 


লেখক-মো.রিদওয়ান আল হাসান,

শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Thursday, June 8, 2023

কেন পড়বেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতায়?


সফলভাবে যোগাযোগ করতে পারার ব্যাপারটা পৃথিবীর সকল পেশা ও বৃত্তিতে সফল হওয়ার একটি প্রধান পূর্বশর্ত। আমরা প্রতিনিয়ত যে নিজের মনের সাথে নিজেই কথা বলি সেইধরণের যোগাযোগ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক,সামাজিক,সাংস্কৃতিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ,আবার,একইসাথে গণমাধ্যম তথা মিডিয়ার কলাকৌশলসহ সকল প্রকার যোগাযোগের ধারণা দেয়ার পাশাপাশি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে একটি চ্যালেঞ্জিং এবং গুরুত্বপূর্ণ পেশা সাংবাদিকতার খুঁটিনাটি শেখানো এবং শিক্ষার্থীদের ক্রিটিকাল থিংকিং করতে উদ্বুদ্ধ করাই গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের উদ্দেশ্য। 

সামাজিক বিজ্ঞান(Social Science) অনুষদভুক্ত গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়টি আপনাকে প্রবেশ করাবে জ্ঞানের সমুদ্রের মতো বিশাল একটি পরিসরে। 


কী কী পড়ানো হয়?

যোগাযোগ বা কমিউনিকেশনের বিভিন্ন ধারণা,মিডিয়া,মিডিয়ার বিভিন্ন কলাকৌশল,সাংবাদিকতার ক্রিয়াকৌশল এবং খুঁটিনাটি।

যেহেতু একজন সাংবাদিককে জ্ঞানের প্রায় প্রতিটি শাখার মৌলিক ধারণা রাখতেই হয়,তাই,বাংলাদেশ ও বিশ্বের ইতিহাস,কম্পিউটার বিজ্ঞান,অর্থনীতি,তথ্যপ্রযুক্তি,পরিসংখ্যান,বাংলাদেশ ও বিশ্ব রাজনীতি, সাইকোলজি, সমাজবিজ্ঞান,আইন, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট,ভাষা ও সাহিত্যের মৌলিক জ্ঞান(বাংলা ও ইংরেজি),পাবলিক স্পিকিং,ভিডিও এডিটিং এবং ব্রডকাস্টিং জার্নালিজমসহ প্রায় সকল বিষয়েরই Essence(সারাংশ) সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেয়া হয় এই বিভাগে। 


পড়াশোনার ধরণঃ

সিমেস্টার সিস্টেম।বছরে দুইটি করে চার বছরে মোট ৮ টি সিমেস্টার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে সেশনজট না থাকায় সময়মতোই পরীক্ষা নেয়া হয় এবং ফল প্রকাশ করা হয়।


চান্স পাওয়ার ক্রাইটেরিয়াঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিবছর ভর্তি পরীক্ষার সার্কুলারে সাবজেক্টভিত্তিক রিকোয়ার্মেন্ট জানিয়ে দেয়। নম্বরভিত্তিক শর্ত পূরণ করতে পারলে এবং মেরিট লিস্টে সাধারণত প্রথম ৫০০ জনের মধ্যে থাকলে(সমসাময়িক পরিসংখ্যান হিসেবে) এই বিভাগে ভর্তি হওয়া যায়। 


চাকরির বাজার কেমন?


প্রথম কথা হলো পৃথিবীর কোনো দেশেই সাংবাদিক হতে হলে সাংবাদিকতা বিভাগে পড়তে হয় না। যেকোনো বিভাগের শিক্ষার্থীই সাংবাদিকতা করতে পারেন। তবে,বাস্তবতা হলো এই যে সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে পড়ে গেলে আপনি অনেক দিক দিয়েই অন্যদের চাইতে নিঃসন্দেহে এগিয়ে থাকবেন। আর যারা সাংবাদিক হতে চান না,তারা কি এখানে পড়বেন না?

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের মূল লক্ষ্য এটা নয় যে আপনি শুধু সাংবাদিকতা পেশাতেই যাবেন। সাংবাদিকতা ছাড়াও শিক্ষক,সরকারি-বেসরকারি কিংবা আন্তর্জাতিক সংস্থার যোগাযোগ,গণযোগাযোগ বা জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তা এবং সর্বোপরি একজন দক্ষ ও চৌকস প্রফেশনাল তৈরি করাও এই বিভাগের অন্যতম উদ্দেশ্য।


এই ডিসিপ্লিনে পড়ার পর আপনার যে যে ক্যারিয়ারের সুযোগ হতে পারেঃ

 

সাংবাদিকতাঃ রিপোর্টার, ইডিটর, সংবাদ পাঠক,উপস্থাপক,মিডিয়া অ্যাডভাইজার ইত্যাদি।


পাবলিক রিলেশনস : জনসংযোগ কর্মকর্তা,কমিউনিকেশন অফিসার,মিডিয়া প্ল্যানার, পাবলিসিটি ম্যানেজার, স্পেশাল ইভেন্ট কো-অর্ডিনেটর, নিউজ রাইটার।


শিক্ষকতাঃ দেশের অনেক পাবলিক,প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে জার্নালিজম বিষয়টি থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার ভালো সুযোগ আছে। বিসিএসে এখন পর্যন্ত শিক্ষা ক্যাডার না থাকায় আপনি এখান থেকে কলেজের শিক্ষক হতে পারবেন না। তবে,স্কুলে শিক্ষকতার সুযোগ থাকবে। 


বিসিএস,ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরিঃ 

যদিও এই বিভাগের জন্য বিসিএসে কোনো আলাদা কোটা নেই,যোগাযোগে দক্ষতা অর্জন করতে পারায় এবং মাল্টি ডিসিপ্লিনারি সাবজেক্ট হওয়ায় এই বিভাগ থেকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস,বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারি ব্যাংকগুলোয় অনেকেই সুযোগ করে নিচ্ছেন। 


বিদেশী গণমাধ্যম গুলোতেও রয়েছে ব্যাপক চাকরির সুযোগ। নিজের যোগ্যতার প্রমান দিতে পারলে খুব সহজেই বিবিসি, সিএনএন, ডয়চে ভেলে এবং অন্যান্য জায়গায় সম্ভাবনা থাকবে।


জার্নালিজমের শিক্ষার্থীদের একটি বিশেষ দিক হচ্ছে ক্যাম্পাস জার্নালিস্ট হিসেবে এবং পত্রিকা অফিস কিংবা মিডিয়া হাউজে সংবাদকর্মী হিসেবে ছাত্রাবস্থাতেই কাজ পাওয়া যায় অনেক।বেতন কম হলেও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থাকে শিক্ষার্থীদের জন্যে।


এছাড়াও ফটোগ্রাফি,ফিল্ম মেকিং,ভিডিও এডিটিং, ফিল্ম রিডিং প্রভৃতি বিষয়ের উপর বাধ্যতামূলক কোর্স থাকায় প্রফেশনাল জীবনে অনেকেই নাটক,সিনেমা নির্মাণ এবং পরিচালনাকে বেছে নিতে পারেন। 


উচ্চশিক্ষার  সুযোগ কেমন?

 যুক্তরাষ্ট্র,অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডায় এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ থাকবে বেশি। সেজন্যে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা এবং অন্যান্য গুনাবলি থাকা খুব জরুরি।



কেন পড়বেন না এই বিভাগে?

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের একটি বিশেষ দিক হলো এই বিভাগে নিজের ইচ্ছে বা আগ্রহ থেকে না আসলে আপনার মানিয়ে নিতে অসুবিধা হবে। র‍্যান্ডমলি কিংবা অন্যের কথায় এই বিভাগে আসলে আপনার পরবর্তীসময়ে অসুবিধা হতে পারে। পড়াশোনা বোরিং মনে হতে পারে। অনেক ডাইনামিক এবং মাল্টি ডিসিপ্লিনারি সাবজেক্ট হওয়ায় পড়াশোনার চাপ বেশি মনে হতে পারে অনেক সময়। প্রেজেন্টেশন এবং অ্যাসাইনমেন্টের চাপ থাকবে নিয়মিত। পড়াশোনা না করে ভালো ফলাফল করা কঠিন হয়ে যাবে। 

সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় এই বিভাগের সিজি কম থাকে এবং যথাযথ মানদণ্ডের মধ্য দিয়েই উত্তরপত্র মূল্যয়ন করা হয়। 

তাই,সিজি খুব বেশি রাখার চিন্তা থাকলে তুলনামূলক সহজ সাবজেক্ট বেছে নিতে হবে আপনাকে। 




লেখক-মো.রিদওয়ান আল হাসান,

শিক্ষার্থী,গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

Monday, June 5, 2023

মৃত্যুর পর- মো.রিদওয়ান আল হাসান

মানুষ মারা গেলে তার অনেক কিছু পৃথিবীতে রেখে যায়।

বেঁচে থাকতে যে সুগন্ধি আতর সে ব্যবহার করতো-

তার ঘ্রাণ রেখে যায়।

যে গজল গেয়ে সে অমনোযোগী জড় সম্পত্তিকে শোভিত করে রাখতো-

তার সুর রেখে যায়।

যে কবিতায় সে প্রেমিকার চাহনির নান্দনিক কম্পনের কথা লিখে রাখতো-

তার শব্দগুলো রেখে যায়।

যে আশায় সে রাতের অনন্ত আকাশের সাতটা মহান স্তর কল্পনা করতো-

সেই বিশ্বাসের ছাপ এঁকে যায়।



মানুষ মারা গেলে অনেক কিছু পৃথিবীতে রেখে যায়।

মায়ের আঁচলের স্পর্শ, বাবার আদর্শের স্ফুরণসহ সে বেঁচে থাকতে যা যা পেতো-

সবকিছুই সর্বমোট নেয়া নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের সমপরিমাণে-

উদাস দুপুরে মহাজগতের হিসেব মিলাতে না পারা কোনো অতিদরিদ্রের- আসমানে উড়ে যাওয়া যুদ্ধবিমানের দিকে তাকিয়ে থাকার মধ্যে সে ছড়িয়ে দিয়ে যায়।



মানুষ মারা গেলে অনেক কিছু পৃথিবীতে রেখে যায়।

দুর্বৃত্তরা কেন দুর্বোধ্য- সেই উত্তর খুঁজে খুঁজে সে বেঁচে থাকার যে একটা স্বাদ পায়-

মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করে সে স্বাদের সাধ অন্যজনকে দিয়ে যায়।

অন্যায়,জুলুমাত আর অন্ধকারের কালো আঁধারে সে লুকিয়ে ঘুমিয়ে থাকার ভান করে যে জীবন কাটিয়ে যায়-

মরণকালে সে অলক্ষ্যে লক্ষ্যভেদের নিশান উড়িয়ে দিয়ে যায়।



মানুষ মারা গেলে অনেক অনেক কিছুই পৃথিবীতে রেখে যায়।

প্রিয় ফুল,প্রিয় ফল,প্রিয় বৃক্ষ,প্রিয় দৃশ্য;বেঁচে থাকতে তার যা যা প্রিয় ছিল-

সবকিছুই সে আধুনিকতার পরম্পরার চিহ্নের মাঝে প্রকাশ করে যায়।

গোলাপের বদলে বেলিফুলের ঘ্রাণ তার কেন ভালো লাগতো-

প্রচ্ছন্ন কিংবা প্রকট জিনের মাধ্যমে সেই রহস্যেরও বংশবৃদ্ধি করে রেখে যায়।

কারবলিক এসিড,ফিনাইল কিংবা ন্যাপথলিনের সংকেত না জেনেও প্রাত্যহিক ব্যবহারের যে রীতি সে পালন করতো-

তারও মোটামুটি একটা ভালো ধারা সে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা করে যায়।



মানুষ মারা গেলে অনেক কিছু পৃথিবীতে রেখে যায়।

অনেক দুর্গন্ধ,পোকামাকড়,আত্মবিস্মৃত অপরাধবোধ কিংবা জলজ্যান্ত জঞ্জাল!

অনেক আকস্মিক ভুলও সে রেখে যায়,ফেলে যায় সে উর্বর আবাদি কৃষিজমিতে।



মানুষ মারা গেলে অনেক কিছু, অনেক কিছুই পৃথিবীতে রেখে যায়।

দূষিত দেহ আর বিকৃত পরিবেশে পুড়িয়ে ফেলা কোনো বৃক্ষের অপভ্রংশের মতো মনের আকুতিতে-

সে আলেয়ার আলোয় জানিয়ে দিয়ে যায় দিগন্ত আর কুয়োর প্রভেদ।



মানুষ মারা গেলে অনেক কিছু পৃথিবীতে রেখে যায়।

বেঁচে থাকতে সে যে মৌলিক বলগুলোকে একত্র না করেই একটা অকৃত্রিম মোহ ছড়িয়ে দিতো-

সেই অমায়িক ভালোবাসা সে রেখে যায়।

ছড়িয়ে যায়।

বিলিয়ে যায়।

তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য-

মানুষের সেই 'ভালোবাসা'কে ধারণ করতে এই মহাবিশ্ব সাধারণভাবে ব্যর্থ হয়।

উপমহাদেশের চলচ্চিত্র জগতে ক্ষণজন্মা তারেক মাসুদ কেন অনন্য? মো. রিদওয়ান আল হাসান

ফরিদপুরের ভাঙায় ১৯৫৬ সালে জন্ম নেয়া তারেক মাসুদ মাদরাসায় পড়ুয়া অন্যান্য দশজন শিক্ষার্থীর মতোই ছোটবেলায় 'সিনেমা' সম্পর্কে তেমন একটা জ...